Showing posts with label চিত্রনাট্য(Screenplay). Show all posts
Showing posts with label চিত্রনাট্য(Screenplay). Show all posts

Friday, January 4, 2008

‘জটিলেশ্বরের ব্যক্তিগত জটিলতা’

গল্প > রোকন রহমান
চিত্রনাট্য > শঙ্খগ্রীব
পরিচালনা > তারেক কাওছার


(প্রথম খসড়া)
Copyright > শঙ্খ’০৭



১।১
দৃশ্য শব্দহীন সংলাপ –

লিখাটি ফেইড আউট হবে, ব্ল্যাক স্ক্রীনে সাদা কালি


১.২(ইন্টেরিয়র,রাত)

ঘরের মাঝখানে, একপাশে পড়ার টেবিলে স্পট লাইট থাকবে। ওই আলোতে পুরো ঘরটি একবার দেখা যাবে, মোট চারটি খাট থাকবে যার তিনটিতে কেউ না কেউ শুয়ে থাকবে। আলোকিত টেবিলের পাশের খাটটিতে দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ে জটিলেশ্বর!

১.৩
জটিল হে, একগ্লাস পানি দাওতো! –

লিখাটি ফেইড আউট হবে, সাদা স্ক্রীনে কালো কালি

১.৪(ইন্টেরিয়র,রাত)

কপালের ঘাম মুছতে মুছতে জটিলেশ্বর স্বগতোক্তি করতে থাকেন...

জটিলেশ্বর :
কি যে করছ কিছুই বুঝিনা ,এতো গ্যাজানোর কি আছে...ঘটনার কোন অনিবার্যতা নেই।

একটু হাসবে...উত্তেজিত হয়ে সোজা হয়ে বসবে

কি হইব ঐ সব আন্দোলনফান্দোলনে তোগতো পুরুষত্বই নাই আবারো চাইয়া দেখ ওই অংগটা আছে কিনা কে জানে, দেখ শেষ পর্যন্ত কি হয়...

জটিল আবারো দেয়ালে ঠেস দেয়...সিগারেটের ধোঁয়ায় রিং বানায়
কাট্‌
২.১(ইন্টেরিয়র,রাত)

জটিল টেবিলে বসে কিছু লিখার চেষ্টা করে...তার কাঁধে কেউ একজন হাত রাখে, জটিল পেছনে তাকায়

জটিলেশ্বর :
কে?
পেছনে আরেকটি টেবিলের উপর স্পট লাইট জ্বলে উঠে...তাতে একজন লোককে দেখা যায়

লোকটি :
কেমন আছ?
জটিল :
বাবা !এত রাতে?
বাবা :
রাত আর কত রাত...আমাদের কি রাতে চলাচল করতে নেই?
জটিল :
না, না তা হবে কেন? হঠাত্‌ এতদিন পর, এইসময়ে...আমায় দেখতে এলে?
বাবা :
প্রত্যাখনের অফুরন্ত সময় পেরিয়ে সুখী হতে চেয়েছিলাম...
জটিল :
তুমি কি সুখী ছিলে না
বাবা :
কে জানে, কার কাছে সুখের সংঞ্জা কি? এলাম বলে রাগ করেছ?
জটিল :
রাগ হবে কেন? তুমিনা আগের মতোই রয়ে গেলে। তুমি এলে বরং ভালোই লাগে,জানতো?
বাবা :
হু, তা বেশ জানি।
জটিল :
সবাই কেমন আছে?
বাবা :
আমার কথা জিঞ্জেস করলে না? দাও, এক গ্লাস পানি দাও, বড় তৃষ্ণা...

জটিলেশ্বর পানির বোতল নিয়ে পিছনে তাকাতেই সব অন্ধকার

জটিল :
শালারা সব পানি খেতে আসে,কথা বলার সময় নাই। সব শালা বাইঞ্চোত্‌।

জটিল পানির বোতল ছুঁড়ে মারে, ঝন ঝন শব্দ হয়, বিছানায় শুয়ে থাকা লোকটি আবাক চোখে তাকায়
আবার শুয়ে পড়ে
কাট্‌
৩.১(কন্টিনিয়েশন)
তুমি বন্ধু কেমন বন্ধু...বন্ধু থাকনা...

লিখাটি ফেইড আউট হবে,ধূসর স্ক্রীনে সাদা কালিতে

৩.২(কন্টিনিয়েশন)

টেবিলে চুপচাপ জটিল, কিছুক্ষন মোবাইলে গ্যাজানোর চেষ্টা... কিছু লিখার চেষ্টা... ঘুম না আসায় বিরক্ত

জটিল :
শালার ঘুম কি একবার আইসা কথা কইতে পারেনা?

সাথে সাথে আরেক টেবিলের উপর লাইট জ্বলবে, তাতে একটা লোক দেখা যাবে

লোকটি :
কিরে দোস্ত ঘুমাস নাই? রাইত ২টা বাজে
জটিল :
আরে তুই? কহন আইলি?
বন্ধু :
বহুতক্ষন,শালা দেখলামতো মধ্য রাতের পাখির সাথে কথা বলছ খুব। এই কাম! রাতে রাতে প্রণয়
জটিল :
ধূস শালা,ওতো কবেই হাওয়া...তুই কেমন আছিস?
বন্ধু :
আমার খবর নেওনের মানুষ কই? আছতো পাঙ্খা...পরকীয়া চলছে খুব
জটিল :
জানিসতো ঐ শব্দটাতে আমার আপত্তি আছে
বন্ধু :
বাদ দে ওসব, দিনকাল কেমন চলে? কতদিন পর ... একটা চিঠিও দিলিনা।
দিনে দিনে একটা ছাগল হইতাছস্‌
জটিল :
এখন আর লিখতে পারিনারে...ভালো লাগেনা কিছুই
বন্ধু :
দে,দে একটা বিড়ি দে, আগুনটাও দে...এখনও আগের ব্র্যান্ড

দু’জন ধূমপানরত...সারা রুম ধোঁয়াতে অন্ধকার হয়ে পড়ে, কারো মুখ দেখা যায় না
জটিল
কতদিন পর একসাথে বিড়ি খাইতেছিরে,আহ্‌। আজ অনেক গল্প হবে, কি বলিস খোকন?
কোন উত্তর আসেনা, টেবিলের বাতি নিভে যায়, ধোঁয়ার আস্তর থাকেনা, তখন চিৎকার করে উঠে জটিল।

জটিল :
খোকন খোকন।

অন্যপ্রান্তে একজন লোক চমকিয়ে উঠে বসে,বিড় বিড় করতে থাকে,জটিলেশ্বরের সাথে চোখাচোখি হতেই...

লোকটি :
শালার পাগল ছাগল!

জটিল কোন কথা বলে না,নিরবে মেঝে থেকে একটা সিগারেট ও দিয়াশলায়ের বাক্স উঠিয়ে নিয়ে আবার টেবিলে বসে...হঠাৎ চিৎকার করে



জটিল :
পাগল ছাড়া শালারা বাচঁতে পারবি?
কাট্‌
৪.২(কন্টিনিয়েশন)

জটিল আবারো টেবিলের সামনে বসে থাকে। একটা কবিতা পড়ে

জটিল :
একটা দিয়াশলাই জ্বালাতে দশ বিশ বছর চলে যায়
নাম ধরে ডাকাডাকি, ভিড়ের ভেতর খোঁজাখুঁজি,
এসব অনেক আগেই মিটমাট হয়ে গেছে...
একটা দিয়াশলাই জ্বালাতে দশ বিশ বছর লেগে যায়।

জটিল :
কি কবিতারে বাপ!হুবহু ব্যাক্তিগত সমীকরণ! শালা লেখে ভালো যদিও চালবাজ বেনিয়াদের দলে,তবুও থাকুক।বাংলায় কবিতা থাকুক।
এই শালা ঘুম বেটার কি হলো?
কাট্‌
৫.১(কন্টিনিয়েশন)

আবারো মানুষ নাকি পতঙ্গে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে...।

লিখাটি ফেইড আউট হবে,হলুদ স্ক্রীনে কালো কালিতে


৫.২(কন্টিনিয়েশন)
জটিল :

উত্তেজিত
সত্যি! তবেতো কেল্লা ফতে। বিজ্ঞান কী তাই বলছে আজকাল!

৬.১(কন্টিনিয়েশন)
প্রেম,প্রেম ভালবাসা...।

লিখাটি ফেইড আউট হবে, আকাশী স্ক্রীনে কমলা কালিতে।

৬.২(কন্টিনিয়েশন)

মৃধু নূপুরের শব্দ
জটিল :
কে?

হঠাৎ জটিলের টেবিলের সমান্তরালে অন্য টেবিলে আলো জ্বলে উঠে। একটা মেয়েকে দেখা যায়।মেয়েটি ও জটিল একান্তরে মুখোমুখি।
মেয়েটির হাসি শোনা যায়
মেয়েটা :
তোমার বন্ধুটি বাজে লোক...
জটিল :
কি বল? ও বাজে নয়, সময় বাজে। কেমন আছো?
মেয়েটা :
আছি,যেমন ছিলাম...
জটিল :
ভালো থাকলে না কেন?
মেয়েটা :
আমাকে তো আর রাখতে পারলে না
জটিল :
তোমার আমার সম্পর্ক তো অন্যরকম,মানে ইয়ে...
মেয়েটা :
অন্যরকম মানে কি? যত্তসব ভন্ডামি।।

মেয়েটি উঠে চলে যেতে থাকে, নূপুরের শব্দ ফেইড আউট হতে থাকে

জটিল :
তুমি কি চলে যাচ্ছ? শোন, সোমা, শোন না একবার......

হঠৎ সব অন্ধকার হয়ে যাবে,জটিল মোম্বাতি জ্বালায়, এক খন্ড আগুনের পিন্ডের সামনে তার চেহারা ছাড়া কিছুই দেখা যাবে না
জটিল :
সত্যি সত্যি চলে গেল!
দূর শালা ঘুম,কই গেছে?কখন থেকে বইসা আছি
কাট্‌



৭.১(কন্টিনিয়েশন)

হাওয়ায় উড়ছে ধবল,আহ্‌ ধবল
মৃত এক পালক
যদিওবা খন্ডিত অমল, আহ্‌ অমল
মিথ্যা এক কৃষ্ণ যাজক!

লিখাটি ফেইড আউট হবে,ধূসর স্ক্রীনে কালো কালিতে।
৭.২(কন্টিনিয়েশন)

মোমবাতির আলোয় জটিল কবিতাটা লিখা শেষ করবে

জটিল :
ভালোই হইছে

দূর থেকে একটা আওয়াজ আসবে

কে ওখানে ?

৭.২(কন্টিনিয়েশন)

কেঊ থাকেনা কখনও, কোনকালে থাকে না কেউ...

লিখাটি ফেইড আউট হবে,লাল স্ক্রীনে নীল সবুজ কালিতে।

৭.২(কন্টিনিয়েশন)

জটিল :
আমি, আমি জটিলেশ্বর, আপনি হঠাৎ...

একটা লোক জটিলের সামনাসামনি বসা, বেশভুষায় চে’ গুয়েভারের মতো...মাথায় তারকা চিহ্নিত ক্যাপ

লোকটা :
হ্যা আমি। বেশ সুখেই আছ দেখছি
জটিল :
কি যে বলেন? বিশ্রী এক অলস সময়
লোকটা :
কিছুত করছো না,আর পারবে বলেও মনে হয়না
জটিল :
আসলে সারা দুনিয়ায় সমাজতন্ত্র এমন অবস্থায় ফেললো না...
লোকটা :
তাই নাকি? বাড়ির পাশেইতো অনেকে লড়ছে।বুঝেছ,এইসব কথা আমদের কালেও তোমাদের মত কেউ কেউ বলতো
জটিল :
মানে সময়টা...
লোকটা :
বল তোমাদের সময় নেই।কৌশল বদলেই বিভ্রান্ত করে দিল তোমাদের
জটিল :
কেঊ যে নেই

লোকটা :
কেউ থাকেনা কখনও,কোনকালে থাকেনা কেউ!

হঠাৎ আলো জ্বলে উঠে জটিলের টেবিলে।তখন কাঊকে দেখা যায় না। ক্যামেরা ধীরে ধীরে দেয়ালে সেঁটে থাকা চে’র ছবিতে জুম ইন হবে।

Monday, December 10, 2007

রূপান্তর (METAMORPHOSIS)



১.১
স্থানঃ- জাবির হল রুম
সময়ঃ- রাত
চরিত্রঃ- একটা লোক

অফ ভয়েসে কবিতা আবৃতি চলতে থাকবে
মিড শটে চেয়ারে আসীন একজন লোকের কোমড়ের নিচের অংশ দেখা যাবে, আস্তে আস্তে ক্যামেরা সামনে মুভ করেবে , ক্লোজ শটে লোকটার পায়ের পাতা দুলছে দেখা যাবে
কাট্‌
১.২
স্থানঃ- জাবির হল রুম
সময়ঃ- রাত
চরিত্রঃ- একটা লোক

টেবিলের উপর ক্যামেরা থাকবে। ক্লোজশটে বই, মিড ক্লোজশটে লোকটাকে তার জামা খুলে হাঙ্গারে রাখতে দেখা যাবে।
কবিতা চলছে।
কাট্‌
১.৩
ব্ল্যাক স্ক্রীনে কয়েক সেকেন্ড ঝালাই কাজের শব্দ শোনা যাবে সাথে সমুদ্রের গর্জ়ন
কাট্‌


২.১
স্থানঃ- সমুদ্র সৈকত
সময়ঃ- সকাল
চরিত্রঃ- একটা লোক

ঝালাইয়ের শব্দ কয়েক সেকেন্ড চলবে
ক্লোজ শটে একটা শামুককে খোলশ ছাড়তে দেখা যাবে । সূর্য উঠবে ।
লং শটে লোকটাকে অর্ধভাজ অবস্থা থেকে সোজা হতে দেখা যাবে পেছন থেকে । খালি গা।
পড়নে পাটের দড়ি দিয়ে বানানো একটা পোশাক অনেকটা আদিম মানুষের মতো
কাট্‌


৩.১
স্থানঃ- ফার্মগেট ওভারব্রীজ
সময়ঃ- দুপুর
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটাকে ভীড়ের মাঝখানে ব্রীজে উঠতে দেখা যাবে। একটা স্থানে বসবে। সমুদ্রের শব্দ থাকবে।
কাট্‌


৪.১
স্থানঃ- পাহাড়
সময়ঃ- সকাল
চরিত্রঃ- একটা লোক

লং শটে লোকটাকে পাহাড়ে উঠতে দেখা যাবে, ক্ষীপ্রতার সাথে। নূপুরের শব্দ শোনা যাবে।
কাট্‌

৫.১
স্থানঃ- বালুর টিবি(বালুঘাট,ডেমরা)
সময়ঃ- দিনে
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটাকে কোমড়ে কিছু বেলুন বেঁধে একটা বালুর টিবিতে উঠতে দেখা যাবে। বৃষ্টির শব্দ থাকবে।
কাট্

*.*
স্থানঃ- স্টুডিও(ইন্ডোর)
সময়ঃ-
চরিত্রঃ- একটা লোক
খালি স্টুডিও, মাঝখানে একটি ড্রাম সেট।কাছে গেলে দেখা যাবে ওগুলো শাড়ির আচঁলে ঢাকা।লোকটিকে ড্রাম বাজাতে দেখা যাবে।ড্রামে একটি স্টিকের আঘাত,আচঁল সরবে, ক্লোজ শটে।জলতরঙ্গের শব্দ। দ্বিতীয় ড্রামের উপর থেকে আচঁল সরলে আবারো স্টিকের আঘাত।
বোম্বিং এর শব্দ।
২.২
স্থানঃ- সমুদ্র সৈকত
সময়ঃ- দিন
চরিত্রঃ- একটা লোক

বালুদ্বারা লোকটা আবৃত থাকবে শুধু মুখটা বাদে,শরীরের উপর তেলাপোকা।চোখে সানগ্লাস থাকবে, টপ শট। মানুষের কোলাহলের শব্দ শোনা যাবে।
কাট্‌
৩.২
স্থানঃ- ফার্মগেট ওভারব্রীজ
সময়ঃ- দুপুর
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটা বসে আছে । দু’একজন পথচারী তার দিকে পয়সা ছুঁড়ে যাচ্ছে । সে রাগান্বিত, তবুও পয়সা গিলছে । সমুদ্রের শব্দ পাওয়া যাবে।
কাট্‌
৪.২
স্থানঃ- পাহাড় চূড়া
সময়ঃ- সকাল
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটা পাহাড়ের চূড়ায় দাড়ঁবে,ধীরে ধীরে ক্যামারার সামনে এগুবে।
লোকটার পেছন দেখা যাবে,সে প্রসাব করছে – শূণ্যে। নূপুরের শব্দ ছাপিয়ে প্রসাবের আওয়াজ পাওয়া যাবে।
কাট্‌
৫.২
স্থানঃ- বালুর টিবি(বালুঘাট,ডেমরা)
সময়ঃ- দিনে
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটা বালুর টিবির উপর উঠে আকাশে উড়তে চেষ্টা করবে,বৃষ্টির শব্দ জোরে,সাথে ঝরো বাতাস।
কাট্‌
৩.৩
স্থানঃ ফার্মগেট ওভারব্রীজ
সময়ঃ- রাত
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটাকে ব্রীজের অন্যপ্রান্ত দিয়ে নামতে দেখা যাবে। সমুদ্রের শব্দ থাকবে,তীব্র ।
কাট্‌

২.৩
স্থানঃ- সমুদ্র সৈকত
সময়ঃ- সকাল
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটাকে একটা শাড়ির আচঁলের পেছনে ছুটতে দেখা যাবে যা কিনা ধীরে ধীরে সাগরের দিকে গমণশীল, ট্রলি শটে। একটা সময় (লো মিড ক্লোজ শটে) লোকটার কাপড় খুলে পড়বে , তবুও সে আচঁলের পিছনে যেতে থাকে, পানিতে লোকটির ফেলে আসা কাপড় , লোকটি এবং শাড়ির আচঁল একই সমান্তরালে থাকবে আচঁলের প্রান্তে গিয়ে এক আজলা পানি মুখের কাছে ধরবে। তীব্র কোলাহলের শব্দ শোনা যাবে।
কাট
৬.১
স্থানঃ- কোন বাঈজী ঘর
সময়ঃ- রাত
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটার মুখে মদের গ্লাস। ওভার দ্যা শোল্ডার শটে কোন বাঈজীর(লোকটির) পায়ে নূপুর দেখা যাবে। তীব্র গাড়িঘোড়ার , হুইসেলের শব্দ শোনা যাবে।
কাট্‌

**২
স্থানঃ- স্টুডিও(ইন্ডোর)
তীব্র লাইট ইফেক্টের মধ্যে লোকটি পাগলের মত ড্রাম বাঝাবে।প্রথমে জলতরং পরে তা ছাপিয়ে গোলাবারুদ,গুলির শব্দ পাওয়া যাবে।
৭.১
স্থানঃ- ঢাকার রাস্তা
সময়ঃ- রাত
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটাকে ধীরে ধীরে কোন এক ডাস্টবিনে ঢুকতে দেখা যাবে। বাঁশীর শব্দ,সমুদ্রের শব্দ,বৃষ্টির শব্দ,মনুষ্য কোলাহল,নূপুরের শব্দ একটার পর একটা আসবে।
কাট্‌
৫.৩
স্থানঃ- বালুর টিবি(বালুঘাট,ডেমরা)
সময়ঃ- দিনে
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটার পায়ের ফাঁক দিয়ে কতগুলো বেলুন লোকটির পোশাক সহ উড়ে যাবে-লো অ্যাঙ্গেল শটে। বৃষ্টি ক্রমান্বয়ে ব্জ্রপাত, ঝড়ের শব্দ পাওয়া যাবে ।
কাট্‌

৭.২
স্থানঃ- ঢাকার রাস্তা
সময়ঃ- রাত
চরিত্রঃ- একটা লোক, দু’জন নগর পরিস্কারক

দু’জন লোক ডাস্টবিনের ময়লা ভ্যানে বা গাড়িতে তুলছে ,এক পর্যায় তারা লোকটিকে ডাস্টবিন থেকে উঠিয়ে ভ্যানে বা গাড়িতে ছুঁড়ে দিবে… । বাঁশীর শব্দ,সমুদ্রের শব্দ,বৃষ্টির
শব্দ,মনুষ্য কোলাহল,নূপুরের শব্দ সব ওভারলেপিং করবে।
কাট্‌
১.৪
স্থানঃ- জাবির হল রুম
সময়ঃ- রাত
চরিত্রঃ- একটা লোক
টেবিলের উপর ক্যামেরা।একই ফ্রেমে, ক্লোজশটে বই, মিড ক্লোজ শটে লোকটিকে হ্যাঙ্গার হতে জামা নিতে দেখা যাবে
কাট্‌

টেবিলের উপর , বোতল থেকে পানি খাবে। মৃদু ঝালাইয়ের শব্দ থাকবে।
কাট্‌

একটি সিগারেট ধরাবে।
কাট্‌

কবিতার বইটা ঘাড় ঘুরিয়ে একনজর দেখবে।
ধীরে ধীরে ঝালাইয়ের শব্দ বাড়বে।
কাট্‌

সিগারেট মুখে নিয়ে সে ঘর থেকে বের হবে(ধীরে ধীরে সকাল হতে থাকবে)।
কাট্‌

লোকটাকে হলের লনে প্রথমে ধীরে পরে দ্রুত হেঁটে বের হতে দেখা যাবে
ক্যামেরা তাকে ফলো করবে। ঝালাইয়ের শব্দ বাড়তে থাকবে।
কাট্‌

প্রথমে কোন সিঁড়িতে তার জামাটা দেখা যাবে। ঝালাইয়ের শব্দ আরও বাড়বে।
কাট্‌

পরে অন্য সিঁড়িতে জলন্ত সিগারেটের টুকরো পাওয়া যাবে। শব্দ আরও বাড়বে।
কাট্‌

শেষ সিঁড়িটাতে তার প্যান্টটা দেখা যাবে। শব্দ তীব্র হবে।
কাট্‌

কুয়াশা ঘেরা ভোরে লোকটিকে শুধু আন্ডারওয়্যার পরিহিত অবস্থায় রাস্তায় দেখা যাবে, যেখানে সে ভ্রুক্ষেপ হীন শুধু সামনের দিকে এগুচ্ছে- ক্যামেরা এক জায়গায় স্টিল । অফ ভয়েসে কবিতা র প্রথম লাইন গুলো আসবে, ধীরে ধীরে সেটা ছাপিয়ে বাঁশীর শব্দ,সমুদ্রের শব্দ,বৃষ্টির
শব্দ,মনুষ্য কোলাহল,নূপুরের শব্দ সব ওভারলেপিং করবে-তীব্র।
কাট্‌


(প্রথম খসড়া)
<সমাপ্ত>



মূল ভাবনা ও চিত্রনাট্য > শঙ্খগ্রীব
পরিচালনা> তারেক কাওছার
copyright>shonkho grib'07