Monday, December 10, 2007

রূপান্তর (METAMORPHOSIS)



১.১
স্থানঃ- জাবির হল রুম
সময়ঃ- রাত
চরিত্রঃ- একটা লোক

অফ ভয়েসে কবিতা আবৃতি চলতে থাকবে
মিড শটে চেয়ারে আসীন একজন লোকের কোমড়ের নিচের অংশ দেখা যাবে, আস্তে আস্তে ক্যামেরা সামনে মুভ করেবে , ক্লোজ শটে লোকটার পায়ের পাতা দুলছে দেখা যাবে
কাট্‌
১.২
স্থানঃ- জাবির হল রুম
সময়ঃ- রাত
চরিত্রঃ- একটা লোক

টেবিলের উপর ক্যামেরা থাকবে। ক্লোজশটে বই, মিড ক্লোজশটে লোকটাকে তার জামা খুলে হাঙ্গারে রাখতে দেখা যাবে।
কবিতা চলছে।
কাট্‌
১.৩
ব্ল্যাক স্ক্রীনে কয়েক সেকেন্ড ঝালাই কাজের শব্দ শোনা যাবে সাথে সমুদ্রের গর্জ়ন
কাট্‌


২.১
স্থানঃ- সমুদ্র সৈকত
সময়ঃ- সকাল
চরিত্রঃ- একটা লোক

ঝালাইয়ের শব্দ কয়েক সেকেন্ড চলবে
ক্লোজ শটে একটা শামুককে খোলশ ছাড়তে দেখা যাবে । সূর্য উঠবে ।
লং শটে লোকটাকে অর্ধভাজ অবস্থা থেকে সোজা হতে দেখা যাবে পেছন থেকে । খালি গা।
পড়নে পাটের দড়ি দিয়ে বানানো একটা পোশাক অনেকটা আদিম মানুষের মতো
কাট্‌


৩.১
স্থানঃ- ফার্মগেট ওভারব্রীজ
সময়ঃ- দুপুর
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটাকে ভীড়ের মাঝখানে ব্রীজে উঠতে দেখা যাবে। একটা স্থানে বসবে। সমুদ্রের শব্দ থাকবে।
কাট্‌


৪.১
স্থানঃ- পাহাড়
সময়ঃ- সকাল
চরিত্রঃ- একটা লোক

লং শটে লোকটাকে পাহাড়ে উঠতে দেখা যাবে, ক্ষীপ্রতার সাথে। নূপুরের শব্দ শোনা যাবে।
কাট্‌

৫.১
স্থানঃ- বালুর টিবি(বালুঘাট,ডেমরা)
সময়ঃ- দিনে
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটাকে কোমড়ে কিছু বেলুন বেঁধে একটা বালুর টিবিতে উঠতে দেখা যাবে। বৃষ্টির শব্দ থাকবে।
কাট্

*.*
স্থানঃ- স্টুডিও(ইন্ডোর)
সময়ঃ-
চরিত্রঃ- একটা লোক
খালি স্টুডিও, মাঝখানে একটি ড্রাম সেট।কাছে গেলে দেখা যাবে ওগুলো শাড়ির আচঁলে ঢাকা।লোকটিকে ড্রাম বাজাতে দেখা যাবে।ড্রামে একটি স্টিকের আঘাত,আচঁল সরবে, ক্লোজ শটে।জলতরঙ্গের শব্দ। দ্বিতীয় ড্রামের উপর থেকে আচঁল সরলে আবারো স্টিকের আঘাত।
বোম্বিং এর শব্দ।
২.২
স্থানঃ- সমুদ্র সৈকত
সময়ঃ- দিন
চরিত্রঃ- একটা লোক

বালুদ্বারা লোকটা আবৃত থাকবে শুধু মুখটা বাদে,শরীরের উপর তেলাপোকা।চোখে সানগ্লাস থাকবে, টপ শট। মানুষের কোলাহলের শব্দ শোনা যাবে।
কাট্‌
৩.২
স্থানঃ- ফার্মগেট ওভারব্রীজ
সময়ঃ- দুপুর
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটা বসে আছে । দু’একজন পথচারী তার দিকে পয়সা ছুঁড়ে যাচ্ছে । সে রাগান্বিত, তবুও পয়সা গিলছে । সমুদ্রের শব্দ পাওয়া যাবে।
কাট্‌
৪.২
স্থানঃ- পাহাড় চূড়া
সময়ঃ- সকাল
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটা পাহাড়ের চূড়ায় দাড়ঁবে,ধীরে ধীরে ক্যামারার সামনে এগুবে।
লোকটার পেছন দেখা যাবে,সে প্রসাব করছে – শূণ্যে। নূপুরের শব্দ ছাপিয়ে প্রসাবের আওয়াজ পাওয়া যাবে।
কাট্‌
৫.২
স্থানঃ- বালুর টিবি(বালুঘাট,ডেমরা)
সময়ঃ- দিনে
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটা বালুর টিবির উপর উঠে আকাশে উড়তে চেষ্টা করবে,বৃষ্টির শব্দ জোরে,সাথে ঝরো বাতাস।
কাট্‌
৩.৩
স্থানঃ ফার্মগেট ওভারব্রীজ
সময়ঃ- রাত
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটাকে ব্রীজের অন্যপ্রান্ত দিয়ে নামতে দেখা যাবে। সমুদ্রের শব্দ থাকবে,তীব্র ।
কাট্‌

২.৩
স্থানঃ- সমুদ্র সৈকত
সময়ঃ- সকাল
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটাকে একটা শাড়ির আচঁলের পেছনে ছুটতে দেখা যাবে যা কিনা ধীরে ধীরে সাগরের দিকে গমণশীল, ট্রলি শটে। একটা সময় (লো মিড ক্লোজ শটে) লোকটার কাপড় খুলে পড়বে , তবুও সে আচঁলের পিছনে যেতে থাকে, পানিতে লোকটির ফেলে আসা কাপড় , লোকটি এবং শাড়ির আচঁল একই সমান্তরালে থাকবে আচঁলের প্রান্তে গিয়ে এক আজলা পানি মুখের কাছে ধরবে। তীব্র কোলাহলের শব্দ শোনা যাবে।
কাট
৬.১
স্থানঃ- কোন বাঈজী ঘর
সময়ঃ- রাত
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটার মুখে মদের গ্লাস। ওভার দ্যা শোল্ডার শটে কোন বাঈজীর(লোকটির) পায়ে নূপুর দেখা যাবে। তীব্র গাড়িঘোড়ার , হুইসেলের শব্দ শোনা যাবে।
কাট্‌

**২
স্থানঃ- স্টুডিও(ইন্ডোর)
তীব্র লাইট ইফেক্টের মধ্যে লোকটি পাগলের মত ড্রাম বাঝাবে।প্রথমে জলতরং পরে তা ছাপিয়ে গোলাবারুদ,গুলির শব্দ পাওয়া যাবে।
৭.১
স্থানঃ- ঢাকার রাস্তা
সময়ঃ- রাত
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটাকে ধীরে ধীরে কোন এক ডাস্টবিনে ঢুকতে দেখা যাবে। বাঁশীর শব্দ,সমুদ্রের শব্দ,বৃষ্টির শব্দ,মনুষ্য কোলাহল,নূপুরের শব্দ একটার পর একটা আসবে।
কাট্‌
৫.৩
স্থানঃ- বালুর টিবি(বালুঘাট,ডেমরা)
সময়ঃ- দিনে
চরিত্রঃ- একটা লোক

লোকটার পায়ের ফাঁক দিয়ে কতগুলো বেলুন লোকটির পোশাক সহ উড়ে যাবে-লো অ্যাঙ্গেল শটে। বৃষ্টি ক্রমান্বয়ে ব্জ্রপাত, ঝড়ের শব্দ পাওয়া যাবে ।
কাট্‌

৭.২
স্থানঃ- ঢাকার রাস্তা
সময়ঃ- রাত
চরিত্রঃ- একটা লোক, দু’জন নগর পরিস্কারক

দু’জন লোক ডাস্টবিনের ময়লা ভ্যানে বা গাড়িতে তুলছে ,এক পর্যায় তারা লোকটিকে ডাস্টবিন থেকে উঠিয়ে ভ্যানে বা গাড়িতে ছুঁড়ে দিবে… । বাঁশীর শব্দ,সমুদ্রের শব্দ,বৃষ্টির
শব্দ,মনুষ্য কোলাহল,নূপুরের শব্দ সব ওভারলেপিং করবে।
কাট্‌
১.৪
স্থানঃ- জাবির হল রুম
সময়ঃ- রাত
চরিত্রঃ- একটা লোক
টেবিলের উপর ক্যামেরা।একই ফ্রেমে, ক্লোজশটে বই, মিড ক্লোজ শটে লোকটিকে হ্যাঙ্গার হতে জামা নিতে দেখা যাবে
কাট্‌

টেবিলের উপর , বোতল থেকে পানি খাবে। মৃদু ঝালাইয়ের শব্দ থাকবে।
কাট্‌

একটি সিগারেট ধরাবে।
কাট্‌

কবিতার বইটা ঘাড় ঘুরিয়ে একনজর দেখবে।
ধীরে ধীরে ঝালাইয়ের শব্দ বাড়বে।
কাট্‌

সিগারেট মুখে নিয়ে সে ঘর থেকে বের হবে(ধীরে ধীরে সকাল হতে থাকবে)।
কাট্‌

লোকটাকে হলের লনে প্রথমে ধীরে পরে দ্রুত হেঁটে বের হতে দেখা যাবে
ক্যামেরা তাকে ফলো করবে। ঝালাইয়ের শব্দ বাড়তে থাকবে।
কাট্‌

প্রথমে কোন সিঁড়িতে তার জামাটা দেখা যাবে। ঝালাইয়ের শব্দ আরও বাড়বে।
কাট্‌

পরে অন্য সিঁড়িতে জলন্ত সিগারেটের টুকরো পাওয়া যাবে। শব্দ আরও বাড়বে।
কাট্‌

শেষ সিঁড়িটাতে তার প্যান্টটা দেখা যাবে। শব্দ তীব্র হবে।
কাট্‌

কুয়াশা ঘেরা ভোরে লোকটিকে শুধু আন্ডারওয়্যার পরিহিত অবস্থায় রাস্তায় দেখা যাবে, যেখানে সে ভ্রুক্ষেপ হীন শুধু সামনের দিকে এগুচ্ছে- ক্যামেরা এক জায়গায় স্টিল । অফ ভয়েসে কবিতা র প্রথম লাইন গুলো আসবে, ধীরে ধীরে সেটা ছাপিয়ে বাঁশীর শব্দ,সমুদ্রের শব্দ,বৃষ্টির
শব্দ,মনুষ্য কোলাহল,নূপুরের শব্দ সব ওভারলেপিং করবে-তীব্র।
কাট্‌


(প্রথম খসড়া)
<সমাপ্ত>



মূল ভাবনা ও চিত্রনাট্য > শঙ্খগ্রীব
পরিচালনা> তারেক কাওছার
copyright>shonkho grib'07

ভালবাসার রঙ

মাল্টিকালার কষ্টের কথা শুনেছ বোধহয়?
- হুম,হেলাল হাফিজ
যদি মাল্টিকালার ভালবাসা দিতে চাই?
- ভালবাসায় মাল্টি বলে কিছু আছে নাকি-থাকলেও নেবনা
এক রঙের ভালবাসা চাও?
- সেটা কেমন শুনি
ধর লাল ভালবাসা?
- লাল মানেইতো থামতে বলা,সতর্কীকরণ!
নীল ভালবাসা?
- নীলবিদ্রোহ ভুলে গেছ
আকাশ রঙের নীল?
- আকাশতো ছোয়াঁ যায় না
হলুদ ভালবাসা?
- মানে একটু অপেক্ষা করা,ও হবেনা
সবুজ ভালবাসা?
- কেমন যেন ঘাস,লতাপাতা গন্ধ
কমলা ভালবাসা?
- মা খেতে খুব পছন্দ করেন
বেগুনী ভালবাসা?
- হবেনা,শুধু রমযানটাই তো আর পুরো বছর নয়
যন্ত্র এখন একমিনিটে এক হাজার রঙ দেয়, বেছে নিবে কি?
- যন্ত্র নয়,মানবিকতায় প্রশয়
সাদা রঙ চলবে?
- ওটা কোন রঙ নয়
তাহলে কালো?
- এটা ভাবা যায়
ও তো শোকের প্রতীক,অশুভ
- তোমার কি,নেব আমি
কিন্তু আমিতো ব্ল্যাকহোল
- বুঝিনি
কালো গেলে,আমি যে অস্তিত্বহীন!

ডিসেম্বর'০৭

Monday, November 26, 2007

পাল্টাপাল্টি

তুমি যখন চোখে কাজল দাও
আমার চোখে তখন রক্ত খেলে
তোমার তৃষ্ণাতুর ওষ্ঠ যখন পায় লিপিস্টিকের ছোঁয়া
আমি তখন চুম্বনরত কোন সিগারেটের পাদদেশ
তুমি যখন স্নান শেষে রোদে শুকাবে ছড়ানো সিক্ত চুল
আমি তখন শুকনো নদীতে দেই বিন্দু বিন্দু জল
তুমি যখন তোমার বক্ষ উচু কর
আমি তখন মাথা উচু করে দাড়াঁতে চাই
একদিকে তোমার সৌন্দর্যের বিলাসিতা
অন্যদিকে বড় সেকেলে আমি ।।

Friday, November 23, 2007

যদিওতথাপিসুতরাংতবুও

দেখা হলে-মুখে হাসো,চোখে বলো
অনুভূতিগুলোতে শব্দ অনুপস্থিত, হাওয়ারাও জমে যায়-তবুও
পরম নিস্তবতা বলে কিছু থাকেনা-সুতরাং
আমকেও চেষ্টা করতে হয়
মুখে বলতে,চোখে হাসতে-তথাপি
দ্বিধান্বিত আমি,তোমার ইশারায়
অসীমের ঐ পাড়ে বসে অবোধ্য
কি এক স্ফূলিঙ্গ ছড়ায়
অসহায় অবুঝ থাকি-যদিও
আমি আমাকেইবা কতটুকু বুঝে উঠতে পারি।।